ইরানকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থা থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করতে বিভিন্ন দেশের ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেসেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ অভিযানের আওতায় ইরানের ব্যাংকিং ও বিমান যোগাযোগ সীমিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। এ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় ২৪ আগস্ট। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এর লক্ষ্য ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক, নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পথ এবং রাজস্ব প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা।
বেসেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, তুরস্ক ও ওমান ইরানের মাহান এয়ারের ফ্লাইট বন্ধ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানি এয়ারলাইনগুলোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তুরস্ক ও ইউএইর বড় কিছু ব্যাংক ইরানের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করেছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের অবশিষ্ট বাণিজ্যিক এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৬টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। ট্রেজারি বিভাগ বলেছে, ইরানের বিমান খাতের ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আর্থিক নেটওয়ার্ক শনাক্ত করাও এই উদ্যোগের অংশ।
এ ছাড়া ১৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন ট্রেজারির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (FinCEN) আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময় করে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজস্ব ও পণ্য সংগ্রহের নেটওয়ার্ক শনাক্তে সহযোগিতা চায়।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ আরও জানিয়েছে, ইরানের তেল পাচার, নিষেধাজ্ঞা এড়ানো এবং অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধেও ধারাবাহিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে।